মেছতা বা মেলাসমা কি ও কেন
মেছতা বা মেলাসমা একটি ত্বকের সমস্যা যা হরমোনাল পরিবর্তন, সূর্যের প্রভাব, জন্মনিয়ন্ত্রন পিল, গর্ভাবস্থা বা জন্মনামাদি*, মেকআপ, সাবানের কারণে দেখা দিতে পারে।
মেলাসমা হল ত্বকের উপর বিভিন্ন রঙের দাগ দেখা যায় যা সাধারণত মুখ, মাথা, গলা, ঘাড় এবং কানে দেখা যায়। মেছতার কোন ব্যথা, জ্বালাপোঁড়া কিংবা চুলকানি নেই। এটি ক্যান্সারের মতো ঝুঁকি বহন করে না। ক্ষেত্র বিশেষে এটি অল্প সময়ে চলে যায় আবার কখনো কখনো সারাজীবন থেকে যায়। সাধারনত চল্লিশোর্ধ্ব নারীদের এটি বেশি দেখা যায়। মেছতা বা মেলাসমা কি ও কেন
(*জন্মনামা একটি মেলাসমার কারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থার সময় এবং প্রথম ছয় মাসে হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে মেলাসমা দেখা দেওয়া সাধারণ। জন্মনামা মেলাসমার প্রধান কারণের মধ্যে থাকে কারণ এখানে হরমোনাল পরিবর্তনের মাধ্যমে মেলানিন উৎপাদনের বেশি হওয়া। এছাড়াও, জন্মনামার জন্য সূর্যের প্রভাব ও উচ্চ কার্বনিক এসিডের প্রভাবও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে।)

মেছতা/মেস্তা বা মেলাসমা কেন হয়
১) সূর্য রশ্নি ও তাপের প্রভাবেঃ সূর্যের ইউভি রশ্মি স্কিন ড্যামেজ করে এমন অবস্থায় ঘরের বাহির হলে আমাদের শরীরে মেলানিন উৎপন্ন হয়। এই মেলানিন অনেকটা ছাতার মত কাজ করে থাকে অর্থাৎ সান ড্যামেজ থেকে রক্ষা করার জন্য আমাদের শরীর থেকে বেশি পরিমানে মেলানিন উৎপন্ন হয় এই অতিরিক্ত মেলানিন মুখে ছোপ ছোপ দাগ তৈরী করে এই দাগকে বলা হয় মেলাসমা বা মেছতা। মেছতা বা মেলাসমা কি ও কেন
২) সন্তান জন্মের পরঃ অনেক মহিলাদের ক্ষেত্রে সন্তান জন্মের পর বিভিন্ন শারীরিক গঠনের কারনে মেছতা বা মেলাসমা দেখা দেয়।
৩) জন্ম নিয়ন্ত্রন পিলঃ জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে মেস্তা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে
৪) জেনেটিক্সঃ ক্ষেত্রবিশেষে বংশগত কারনে মেস্তা দেখা দেয়। মায়ের মেস্তা থাকলে মেয়ের মেছতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৫) হরমোনালঃ হরমোনাল কারনেও মেসতা নারী পুরুষ সবারই হতে পারে। গবেষনায় দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় ৯০% নারীর মেছতা হয়ে থাকে। কনট্রাসেপটিক পিল বা প্রেগনেন্সির সময় বা পরে হরমোনাল পরিবর্তনের ফলে মেসতা দেখা দেয়। গর্ভবতী মহিলাদের শরীরে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই মেলাসমার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে। তাই প্রেগনেন্সির সময় মেলাসমা বা মেছতা দেখা দেয়। আবার থাইরয়েডের প্রবলেম থাকলেও মেছতা হতে পারে। মেছতা বা মেলাসমা কি ও কেন
৬) কসমেটিকসঃ কিছু কিছু কসমেটিকস এর কারনে মেছতা দেখা দিতে পারে যেটিকে বলা হয় phototoxic reaction
৭) সাবানঃ কিছু সুগন্ধিযুক্ত সাবান মেছতা সৃষ্টি করতে পারে তবে এসব দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি
৮) এলইডি স্ক্রিনঃ এলইডি স্ক্রিন যেমন টেলিভিশন, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন এসব থেকে এলইডি লাইটের কারনে মেছতা হতে পারে
মেছতা বিষয়ে আমরা ধারাবাহিক বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করবো, পরিচর্যা, চিকিৎসা এবং ঘরোয়া চিকিৎসাসহ বিভিন্ন বিষয়গুলো। ধৈর্য্য সহকারে সবগুলো পোস্ট পড়ুুন এবং পরিচর্যা করুন আশা করি মেছতা থেকে মুক্তি মিলবে।
“মেছতার চিকিৎসা ও পরিচর্যা” Melasma Products


