মেছতার ঘরোয়া চিকিৎসা
মেছতার জন্য কিছু ঘরোয়া চিকিৎসার উপায় রয়েছে যা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ
স্কিনকে হেলদি রাখার জন্য কিছু খাবার বেশ উপকারী যেমনঃ আলমন্ড মিল্ক, ডিম, মাংস, মাশরুম, তৈলাক্ত মাছ, অরেঞ্জ জুস এবং দই। মেছতার জন্য হেলদি স্কিন এর পাশাপাশি নিচের ঘরোয়া চিকিৎসা ভাল ফলদায়ক হয়।
১। টমেটো জুসঃ টমেটো জুসের সাথে লেমন জুস একই অনুপাতে মিশিয়ে নিন এবং এটি দ্বারা আপনার ত্বকে ঘষে নিন। টমেটো জুস ব্লীচিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে এবং লেমন জুস একটি প্রাকৃতিক সাফল্য দাবী করবে।
২। দইঃ সাধারণত দই একটি উপকারপ্রদ ঘরোয়া চিকিৎসার উপাদান। দই থেকে সামান্য লেপন বানান এবং এটি আপনার ত্বকে লাগান। দই থাকলে এর ল্যাক্টিক এসিড হাইড্রোকোইনের মতো কাজ করতে পারে এবং আপনার ত্বকে সামান্য উজ্জল করতে পারে।
৩। হিসুট পাউডারঃ হিসুট পাউডার হাইড্রোকোইনের প্রাকৃতিক বিকল্প হতে পারে এবং এটি মেলাসমার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি আপনার ত্বকে সামান্য উজ্জল করতে পারে
৪। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারঃ
১ টেবিল চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ও ১ চা চামচ মধু ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার মেছতার জায়গায় লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। যদি আপনি শুধুমাত্র মেছতায় লাগান তাহলে এই প্যাকটি প্রতিদিন ব্যবহার করতে পারেন। আর যদি পুরো মুখে লাগান তাহলে একদিন পর পর ব্যবহার করবেন।
– অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারে থাকে ম্যালিক এসিড যা ডার্ক সেলকে এক্সফোলিয়েট করে ভিতর থেকে ফর্সা করে।
৫। অ্যালোভেরাঃ
ফ্রেশ অ্যালোভেরা নিয়ে মেছতার জায়গায় লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট মাসাজ করুন। এরপর ধুয়ে নিন। অ্যালোভেরা জেল আপনি চাইলে সারারাত ও রেখে দিতে পারেন।
– অ্যালোভেরা জেল ডার্ক সেলের ডিপিগমেন্টেশন করে আর মেছতার দাগ কমায়।
৬। কলার খোসাঃ
কলার খোসার ভিতরের দিকটি নিয়ে মেছতার জায়গায় ৩ থেকে ৪ মিনিট ঘষুন। এরপর আরো ৫ মিনিট রেখে দিন যাতে কলার খোসার অংশগুলো ত্বক শুষে নেয়। প্রতিদিন একবার করে এই টিপসটি ব্যবহার করতে পারেন।
– ত্বক ফর্সা করতে ও বয়সের ছাপ দুর করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলে গ্লুকোনোল্যাক্টোন যা কলার খোসাতে পাওয়া যায়।
৭। টক দইঃ
১ টেবিলচামচ টক দই ও ১ চা চামচ মধু মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে নিন। এবার পরিষ্কার মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। ১০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এই মাস্কটি প্রতিদিন একবার করে ব্যবহার করতে পারেন। মেছতার দাগ দুর করে ফর্সা ত্বক করার জন্য একদম পারফেক্ট কম্বিনেশন হলো টকদই ও মধু।
৮। আমন্ড অয়েলঃ
অল্প আমন্ড অয়েল গরম করে নিন। এবার ২ থেকে ৩ ফোঁটা অয়েল আঙ্গুলে লাগিয়ে নিয়ে মেছতার জায়গায় কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন। ঘন্টা খানেক রেখে ধুয়ে নিন।
– আমন্ড প্রাকৃতিক ব্লিচিং হিসেবে কাজ করে ও মেছতার দাগ হালকা করে। তাছাড়া এতে ভিটামিন এ এবং ই থাকে যা ত্বককে ভেতর থেকে নারিশ করে।
৯। আরগন অয়েলঃ
আরগন অয়েল ত্বক ও চুলের জন্য খুবই উপকারী। প্রথমে মুখ ভালভাবে ধুয়ে নিয়ে শুকনো করে নিন। এবার ২ বা ৩ ফোঁটা আরগন অয়েল নিয়ে মেছতার দাগযুক্ত জায়গায় ম্যাসাজ করুন। সারারাত রেখে দিন ও পরদিন সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এটি লাগাতে পারেন।
– আরগন অয়েলে থাকা ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন ই ও ক্যারোটিনয়েডস একসাথে কাজ করে ধীরে ধীরে মেছতার দাগ দুর করে সাথে সুর্য্যের কারণে হওয়া ক্ষতি কমিয়ে আনে।
১০। অলিভ অয়েলঃ
প্রথমে তেল গরম করে আঙ্গুলের টিপ এ অল্প তেল নিয়ে সারামুখে মাসাজ করুন। যতক্ষণ না ত্বক তেল শুষে নেয় ততক্ষণ মাসাজ করুন। এবার ঘন্টাখানেক রেখে হালকা উষ্ণ পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। আপনি চাইলে দিনে ২-৩ বার আপনার মেছতার উপর অলিভ অয়েল লাগাতে পারেন।
১১। টি ট্রি অয়েলঃ
ত্বকের যত্নে টি ট্রি অয়েল খুব জনপ্রিয়। মেছতার দাগ কমাতেও আপনি এই টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। ১-২ ফোঁটা অয়েল নিয়ে মুখে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করে নিন। কয়েক ঘন্টা রেখে দিতে পারেন। আপনি চাইলে দিনে ১-২ বার এই এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।
– টি ট্রি অয়েলের হিলিং প্রোপার্টিজের কারণে এটি মেছতার দাগ কমায় সাথে ব্রণের সমস্যা দুর করে সুদিং অনুভূতি দেয়। যাদের ত্বক সেন্সিটিভ তারা টি ট্রি অয়েলের সাথে ২-৩ ফোঁটা অন্য কোন তেল যেমন অলিভ অয়েল বা জোজোবা অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন।



